খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকায় আলোচিত সন্ত্রাসী পলাশ তালুকদার ওরফে ‘চিংড়ি পলাশ’-এর বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় সেখান থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলিসহ পলাশের স্ত্রী ও এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানাধীন গোবরচাকা এলাকার ওই বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় পুলিশের একটি চৌকস দল।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, যশোর থেকে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওই বাড়িতে অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতেই রিফাত তালুকদার (২১) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আটক রিফাত যশোরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো. ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার সঙ্গে পলাশের পরিবারের কী যোগসূত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালীন পলাশ তালুকদারের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানীকেও (৩০) আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, স্বামী পলাশ কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এমন কথা বলে তার ভাশুর তাকে খুলনায় ফিরিয়ে আনেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার ভাশুর সবকিছু বলতে পারবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, আলোচিত ‘চিংড়ি পলাশ’-এর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে। এর আগেও যৌথ বাহিনী এবং র্যাবের অভিযানে বিভিন্ন দেশি অস্ত্র ও ককটেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। পলাশ কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তার বাসায় অস্ত্র মজুত থাকার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং কোনো নাশকতামূলক কাজে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।