ক্রীড়া ডেস্ক
বেলজিয়ামের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়টি ফরাসি শিবিরে কেবল একটি সাধারণ সাফল্যই নিয়ে আসেনি, বরং কোচ জিনেদিন জিদানের যুগের শুরুর ম্যাচেই জন্ম দিয়েছে একাধিক চমকপ্রদ ও ঐতিহাসিক রেকর্ডের। ফরাসি পরিসংখ্যানভিত্তিক নেটওয়ার্ক 'স্ট্যাটস ফুট'-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান ২০২৬ সালে ফরাসি জাতীয় দল এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ জিতেছে। এর আগে ২০১৮ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১২টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা। ফলে জিদানের অধীনে বর্তমান দলটি তাদের সেই সোনালী সাফল্যের পথেই হাঁটছে।
এই রেকর্ড গড়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে। বেলজিয়াম ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯২ সালে জেরার্ড হুলিয়ারের অধীনে কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টোনার পর প্রথম ফরাসি ফুটবলার হিসেবে নতুন কোচের অধীনে দলের প্রথম দুটি গোলেই সরাসরি অবদান রাখার অনন্য কীর্তি গড়লেন ওলিসে। অর্থাৎ দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ফরাসি ফুটবলে ফিরল এই বিরল রেকর্ড। এছাড়াও, ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের প্রথম ২৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওলিস মোট ১৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (৮টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট)। ১৯৯৭ সালে ইউরি জোর্কায়েফের প্রথম ২৭ ম্যাচে ২২টি গোলে অবদান রাখার পর এটিই ফরাসিদের হয়ে যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অবদান।
দলের অন্য তরুণ তারকারাও আলো ছড়িয়েছেন এই ম্যাচে। দেসিরে দুয়ে এবং ব্রাডলি বারকোলাওকে একসঙ্গে মাঠে নামিয়ে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে ফ্রান্স। এই জুটিকে একসঙ্গে রেখে খেলা সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফরাসিরা। অন্যদিকে রক্ষণভাগে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে ক্লিনশিটের পরিসংখ্যান। দলের অন্যতম ভরসা ডায়োট উপামেকানোকে ছাড়াই খেলতে নেমে শেষ ১৪ ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হলো ফ্রান্সের রক্ষণভাগ। এর আগে তাকে ছাড়া সবশেষ ফরাসিরা ক্লিনশিট পেয়েছিল গত ২০২৫ সালের ৮ জুন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে। সব মিলিয়ে জিদানের কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুটা যে রেকর্ড আর সাফল্যের আলোয় মোড়ানো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।