মিয়ানমার উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানরত একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ এবং আগামী আগামীকালও এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি উপকূলীয় অঞ্চলে অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রে আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, বরং ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি আরও কিছুদিন রাজধানীবাসীকে ভোগাতে পারে।
আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে মিয়ানমারের কিয়াইকতো এলাকার ওপর দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।
গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকার সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণ না করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তবে দেশের অন্য দুই সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য কোনো সতর্কসংকেত জারি করা হয়নি।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলে নিম্নচাপের কারণে ঝড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়লেও রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আজ দিনের বেলায় রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম, তবে রাতের দিকে সামান্য কিছু বৃষ্টি হতে পারে। এমনকি আগামীকালও রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলমান এই সময়ে দেশজুড়ে তীব্র গরমের অস্বস্তি বজায় রয়েছে। গত তিন দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অনেকটাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে ইতিপূর্বেই তিন দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে, যা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে রাজধানীতে গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও ঢাকায় এই তাপমাত্রা মাত্র এক দিন স্থায়ী হওয়ায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে তাপপ্রবাহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও গরমের এই অস্বস্তিকর অনুভূতি আজ এবং আগামীকালও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।