আসন্ন হেমন্ত ঋতু শুরু হতে এখনও প্রায় আড়াই মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে। অথচ এরই মধ্যে শরৎকালের মধ্য আশ্বিনে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেখা মিলেছে শীতের এক স্পষ্ট আগমনী বার্তা। ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঢেকে গেছে ঘন সাদা কুয়াশায়, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হালকা হিমেল বাতাসের পরশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে তেঁতুলিয়ার প্রকৃতিতে এই অপ্রত্যাশিত ও মনোরম কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়। সকালের দিকে চারপাশ এমনভাবে কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে সড়কে কয়েক গজ দূরের দৃশ্যও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ফলে প্রতিদিনের মতো যথাসময়ে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলোকে দিনের আলোতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষভাগে এমন হেমন্তকালীন বা শীতের আমেজের আবহাওয়া সচরাচর দেখা যায় না, যা স্থানীয়দের মাঝেও বেশ কৌতূহল ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যতিক্রমী আবহাওয়ার বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে, মঙ্গলবার ভোরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও দিনের বেলা রোদের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে, তবে ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ও কনকনে হিমেল হাওয়া আগাম শীতের পদধ্বনি জোরালো করে তুলছে। পঞ্চগড় অঞ্চলের সাম্প্রতিক মৌসুমি আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ফলেই মূলত ভোরে এমন ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
হঠাৎ করে নেমে আসা এই কুয়াশা ও ঠান্ডা আমেজ প্রসঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝেও ভিন্ন রকম অনুভূতি কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার ইমরান হোসেন জানান, ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এত বেশি ছিল যে সামান্য দূরের পথও খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল না। হিমেল বাতাসের দাপটে অনেককেই ঘর থেকে বের হওয়ার সময় গায়ে হালকা গরম কাপড় জড়িয়ে নিতে দেখা গেছে। এদিকে গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া কৃষকেরাও জানিয়েছেন যে, সকালের ঘন কুয়াশা ও চারপাশের আবছা আলোর কারণে মঙ্গলবার মাঠে কৃষিকাজ বা ফসল তোলার কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব আকাশে সূর্যের তেজ বাড়লে ধীরে ধীরে কুয়াশার আস্তরণ কেটে যায় এবং চারপাশের পরিবেশ পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
উত্তরের হিমালয় কন্যা খ্যাত তেঁতুলিয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে হঠাৎ এমন শীতের আমেজ ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া দেখা দেওয়ায় এটিকে আসন্ন শীত মৌসুমেরই এক ধরনের আগাম বার্তা বলে মনে করছেন এলাকার প্রবীণ ও সাধারণ বাসিন্দারা।