নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ, জলাতঙ্ক রোধ এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে এসব পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করি, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মুক্ত পৌরসভা গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্প্রেয়ার মেশিনের মাধ্যমে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। এ সময় তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু রোধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
এর পরপরই উপজেলা পরিষদ হলরুমে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে করণীয় ও নিরাপদ মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও সানজিদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। সভায় জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়াও সভায় নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়।
উক্ত কর্মসূচি ও সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।