দেশীয় চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করে তুলতে আখের উৎপাদন এবং ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি শুরু করেছে দেশের একমাত্র লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আখের ক্ষেতসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান।
পরিদর্শনের সময় তিনি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলীর আখের জমি ঘুরে দেখেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখের বর্তমান সার্বিক অবস্থা, গাছের সঠিক পরিচর্যা এবং আগামীতে ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। আখচাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং উন্নত ফলন প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে আখের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করার জন্য যথাসময়ে ‘ডিট্রাসিং’ কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উল্লেখ্য, ডিট্রাসিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আখের পুরোনো, শুকনো ও রোগাক্রান্ত পাতা অপসারণ করা হয়ে থাকে।
মাঠ পরিদর্শনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, “আখের সঠিক পরিচর্যা, সময়োপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে আখের উৎপাদন ও ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। উৎপাদন বাড়লে একদিকে যেমন চাষির আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে মিলের জন্য পর্যাপ্ত আখের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর চূড়ান্ত সুফল হিসেবে আমাদের দেশীয় চিনি শিল্প আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।”
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম, উপ-মহাব্যবস্থাপক (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, সাব-জোন প্রধান এম. এ. রতন এবং সংশ্লিষ্ট সিডিএবৃন্দ।
প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আখচাষিদের সঙ্গে সব সময় নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আখের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, “আখচাষ বাড়ুক—চাষি সমৃদ্ধ হোক”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন মাঠপর্যায়ের তৎপরতা স্থানীয় আখচাষিদের আরও অনেক বেশি উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কেরুর মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক চিনি শিল্পেও এক ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।