রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা সফরকালে এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে এবং আইন যে সবার জন্য সমান, তা বাস্তবে প্রমাণ করে ছাড়বে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকেরও অধিক সময় ধরে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নির্মমভাবে হরণ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের টুঁটি চেপে ধরে তাদের কষ্ট-দুর্দশার কথা শোনারও কেউ ছিল না। অবশেষে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অদম্য অভ্যুত্থানের মুখে সেই সৈরাচারী শক্তির পতন ঘটে এবং চলতি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এ দেশের সচেতন জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করে।
জনগণের দেওয়া এই আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অতীতে যেভাবে আইনকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, সেই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ, বন্ধ মিল-কারখানা সচল করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং নতুন খাল খনন কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল বা গুপ্তবাহিনী পর্দার আড়াল থেকে দেশে কৃত্রিম অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জনবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নারীর ওপর নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই চক্রের ভূমিকা কী ছিল, তা দেশবাসীর অজানা নয়। ঠিক একইভাবে বর্তমান সময়েও তাদের কিছু সদস্য নারীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। যারা আজ বড় বড় নসিহত দেয়, তাদের উচিত অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের ঘর সামলানো।
পরশুরামের এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর তিনি জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে উপস্থিত হয়ে রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। সফরের শেষ পর্যায়ে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মাঝে বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের হাতে আর্থিক সম্মানী তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর ব্যস্ততম ফেনী সফর সমাপ্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।