নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য ও বিতর্কিত ব্যক্তি এনামুল কবীর টুকুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সদস্যদের সর্বসম্মত অভিযোগের ভিত্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাল কাগজপত্র তৈরি করে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ছিল এনামুল কবীর টুকুর বিরুদ্ধে। এর সত্যতা যাচাইয়ের পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার গেজেট নম্বর (২৬৪) বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হরিদাস ঠাকুরের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তার সনদ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-৯, ধারা-১-এর (ক) উপধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলন, ক্লাবের গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং পেশাগত মর্যাদাহানিকর অপরাধে সাধারণ সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস. এম. আব্দুল হক। উল্লেখ্য, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে টুকু বর্তমানে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় বসবাস করেন।
এদিকে টুকুর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক সমাজ। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে টুকুর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই ও আন্দোলন চালিয়ে আসা আমেরিকান প্রবাসী নেওয়াজ মাহমুদ ভিকু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুকু সাংবাদিকতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচর্যাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বিসিএস কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ফ্ল্যাট ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করার মতো নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সনদ বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এনামুল কবীর টুকু জানান যে তিনি এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হবেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করেছে।