ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি

দফায় দফায় শক্তিশালী ভূকম্পন: ৭৫ মিনিটে কেঁপে উঠল দেশ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:৪৩ পিএম

মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে মধ্যরাতে একাধিক শক্তিশালী ভূকম্পনে আতঙ্কিত হয়ে কেঁপে উঠল পুরো দেশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঘুমন্ত মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়ে একের পর এক ঘটে যায় এসব ভূমিকম্প। প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত ও সংলগ্ন অঞ্চলে উৎপত্তিস্থল হওয়া এসব ভূকম্পনের জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। আকস্মিক এই ভূকম্পনগুলো দেশের ভূতাত্ত্বিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের।


আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি)-এর দেওয়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী, গত শনিবার রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূকম্পনটি আঘাত হানে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উৎপন্ন এই ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯ রেকর্ড করা হয়। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত জেলা কক্সবাজার, টেকনাফ এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জনপদ প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করে।


এই প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক এক মিনিটের ব্যবধানে, অর্থাৎ রাত ১২টা ১৩ মিনিটে আরও একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিজোরামের লুংলেই অঞ্চলে উৎপত্তিস্থল থাকা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ০। এই কম্পনের ফলে চট্টগ্রাম ছাড়াও কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন, যা রাতের স্থবিরতাকে মুহূর্তেই এক ত্রাসময় পরিস্থিতিতে রূপ দেয়। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন।


এরপর গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে রাত ১টা ২৭ মিনিটের দিকে ত্রিপুরার আগরতলা ও ধলাই এলাকায় আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্যানুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৮ মাত্রার এই মাঝারি ভূকম্পনের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্য ও উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। পরপর তিন দফায় এমন ভূকম্পনের ফলে রাতের গভীরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং অনেকেই উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটান।


এদিকে প্রথম দফার এই ধারাবাহিক কম্পনের ধাক্কা সামলে ওঠার পর রবিবারের ভোরের দিকে আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রাজধানী ঢাকা থেকে ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে ভোর ৪টার দিকে সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮। ধারাবাহিক এসব ভূকম্পনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, ঘন ঘন এ ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও সচেতনতা জরুরি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর