কুমিল্লা সংবাদদাতা:
কুমিল্লার
আলোচিত ও মর্মান্তিক স্কুলছাত্রী
তাজমিন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন-কে কুমিল্লায় নিয়ে
এসেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে
নিহত তাজমিনের সঙ্গে থাকা হাতছাড়া হওয়া মোবাইল ফোনটিও সফলভাবে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের
পেছনে অভিযুক্ত সুমনের পাশাপাশি অন্য কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্রব
রয়েছে কি না, তা
অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬)
বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হয় বলে জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক চৌকস দল শুরু থেকেই
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করার পর প্রয়োজনীয় সকল
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত কুমিল্লায় স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশের
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্কুলছাত্রী তাজমিনের করুণ মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনার
সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সুমন যাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ বা কথা বলেছেন,
তদন্তের স্বার্থে তাদেরও এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের
ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধী গোষ্ঠী বা ব্যক্তি সরাসরি
জড়িত কি না, তা
এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলার সংবেদনশীলতা ও তদন্ত কাজ
চলমান থাকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা
নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এর
আগে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার সম্মানিত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আসামি সুমনকে সফলভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লার লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায়
ইতিমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই অপরাধে অন্য
কারও কোনো ধরনের ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা ছিল
কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে
দেখা হচ্ছে।
স্কুলছাত্রী
তাজমিন হত্যার ঘটনায় নিখুঁত ও নিরপেক্ষ তদন্ত
কাজ এখনও জোরকদমে অব্যাহত রয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা
সুনির্দিষ্টভাবে অনুসন্ধানের কাজ চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত
করে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে
পুলিশ।