শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ, রান্নাঘরের জমা গ্যাস ও রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব পৃথক দুর্ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে চারজনের শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাত থেকে আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর পর্যন্ত জেলার কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় পরপর এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর দগ্ধদের উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়া বাড়ির দ্বিতীয় তলায়। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপলাইন লিকেজ থেকে জমতে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চার সদস্য মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন—পোশাকশ্রমিক রোজিনা বেগম (৬০% দগ্ধ), তাঁর স্বামী মো. শরিফ (৪০% দগ্ধ), শরিফের ভাই রিয়াজ (৪০% দগ্ধ) এবং রনি (৭০% দগ্ধ)।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শনিবার মধ্যরাতে ফতুল্লা এলাকায় একটি কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আবদ্ধ গুদামে ক্ষতিকারক রাসায়নিক গ্যাস জমে এই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত আনোয়ার (৫৪% দগ্ধ) ও শামসুল (৫৫% দগ্ধ) নামের দুই পোশাক/কেমিক্যাল শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন।
তৃতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে আজ রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে। তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে রাতভর জমে থাকা গ্যাসে দেশীয় উনুন বা লাইটার জ্বালাতে গেলে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে পুরো ঘর আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এতে গৃহবধূ শিখা রানী, তাঁর স্বামী মনা আচার্য ও তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি মারাত্মকভাবে পোড়া যান। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের একটি টিনশেড ঘরের ওপর ইটের অংশ ভেঙে পড়ে আরও এক প্রতিবেশী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাঁচপুরে সিলিন্ডার গ্যাস ও দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকেই জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের প্রধান কারণ। অন্যদিকে ফতুল্লার গুদামে রাসায়নিকের বিষাক্ত গ্যাস থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার জানান, নারায়ণগঞ্জের পৃথক ঘটনায় আসা রোগীদের অনেকেরই শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।