পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন' এবং 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি'র যৌথ ব্যানারে আহূত এই ধর্মঘট ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনপ্রিয় এই পর্যটন রুটে পুরোপুরি দূরপাল্লার ও পর্যটকবাহী যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গেছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকেই সাজেক পর্যটন সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেটিং শুরু করে অবরোধ সমর্থকেরা। সাজেক সড়কের গঙ্গারাম বাজার, রেতকারা মুখ, দোপাতাছড়া ও উজোবাজারসহ প্রধান প্রধান স্থানে সড়কের ওপর বিশালাকার গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও পিকেটিং প্রদর্শন করা হয়। সকালে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্প বা পুলিশ চেকপোস্ট থেকে কোনো ধরনের পর্যটকবাহী চাঁন্দের গাড়ি, বাস বা ব্যক্তিগত যানবাহন সাজেকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরাও নিরাপত্তার স্বার্থে ফিরতে পারছেন না।
এর আগে গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন।
স্থানীয় অধিবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিগত প্রায় এক মাস ধরে সাজেক পর্যটন অঞ্চল ও তার সংলগ্ন পাহাড়ে স্থানীয় দুটি সশস্ত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত ও পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র দুই দলের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামের এক নিরীহ পাহাড়ি শিশু মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পাহাড়ের শীর্ষ দুটি আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সংঘাতের জের ধরেই মূলত সাজেকে নিরাপত্তা ও জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকটি স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে ডাকা এই অবরোধের নেপথ্যে ইউপিডিএফের সরাসরি চাপ ও রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা সাজেক রুটে টহল জোরদার করেছেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।