দেশের
বিমানবন্দরগুলোতে রানওয়ে ও উড্ডয়নকালে উড়োজাহাজের
সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের (বার্ড স্ট্রাইক) ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশে এই ঝুঁকি সাড়ে
তিন গুণ বেশি হলেও তা প্রতিরোধে বিমানবন্দরগুলোতে
নেই কোনো আধুনিক ও কার্যকরী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।
এতে করে যেকোনো সময় বড় ধরনের বড়
দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাপ্ত
তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে
দেশের ৮টি বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী ও পাখির সঙ্গে
উড়োজাহাজের অন্তত ২৭৭টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ৯৫ শতাংশই পাখির
সঙ্গে। আর গত ৪
বছরে এ ধরনের দুর্ঘটনা
বেড়েছে চার গুণ। দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল ‘বার্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। সিলেটের ওসমানী ও চট্টগ্রামের শাহ
আমানত বিমানবন্দরে পদের বিপরীতে নামমাত্র লোকবল থাকলেও বরিশাল, যশোর, সৈয়দপুর, কক্সবাজার ও শাহ মখদুমসহ
৫টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কোনো ‘বার্ড শুটার’ই নেই।
অস্ত্রের
রক্ষণাবেক্ষণ ও উপকরণের ঘাটতির
কথা স্বীকার করেছেন শাহ আমানত ও শাহজালাল বিমানবন্দরের
পরিচালকেরা। এভিয়েশন খাতকে সুরক্ষিত রাখতে গত মে মাসে
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর নেতৃত্বে
একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হলেও গত ৪ মাসেও
তার কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
তবে
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম.
রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত ‘অ্যান্টি-বার্ড’ ও ‘অ্যান্টি-ড্রোন’
প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পাখি মেরে সমস্যার সমাধান হবে না; মান্ধাতা আমলের ব্যবস্থা বদলে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত নজরদারি
নিশ্চিত করতে হবে।