রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বিভিন্ন সরকারি কার্ড বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও নিচ মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে সরকারি কোনো সুবিধা বা কার্ড এলে তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই এমপি ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের পকেটে চলে যায়। পরিস্থিতি এমন যে, কাল যদি সরকার বিধবা কার্ডও চালু করে, তবে দেখা যাবে সব নিয়ম ভেঙে এমপিদের স্ত্রীরাই সবার আগে সেই কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রশক্তি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে এই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
স্বজনপ্রীতির চিত্র তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সম্প্রতি দেশে সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অভাবনীয় কারচুপি ও স্বজনপ্রীতি। সেখানে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে এমপির ছেলে, মেয়ে এমনকি শ্যালিকাকেও ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা এতটাই পচে গেছে যে বেকার ভাতা চালু করলেও সাধারণ যুবকদের বদলে এমপিদের স্বজনরাই সুবিধা ভাগিয়ে নেবে। এই ধরনের সংকীর্ণ ও নিচু মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জেন-জি (নতুন প্রজন্ম) তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওই ভিসি একজন চিহ্নিত গুন্ডা ও নীতিহীন মানুষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউ তাকে ক্যাম্পাসে চান না। দীর্ঘদিন ধরে সার্কিট হাউসে বসে তিনি বিতর্কিত উপায়ে প্রশাসনিক কাজ চালিয়েছেন। আর এখন ছাত্রদলের কিছু গুন্ডা ক্যাডারদের বলপ্রয়োগ করে তাকে জোরপূর্বক ভিসির চেয়ারে বসাতে হচ্ছে, যা শিক্ষাঙ্গনের জন্য চরম লজ্জাজনক। দেশকে যারা পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরদার ও মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমরেড আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।