রাজধানীর
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলির মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে সর্বস্ব
হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার বিকেলে লাগা আগুন দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে
আনতে সক্ষম হলেও এখনো ভবনটির ভেতরে ধোঁয়া থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের গোডাউনের মালামালের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না।
কারো
গোডাউনে থাকা ৪০ লাখ টাকার
ব্যাগ, আবার কারো কোটি কোটি টাকার কসমেটিক ও অন্যান্য পণ্য
পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চোখেমুখে অনিশ্চয়তা নিয়ে ভবনটির সামনে ভিড় করেছেন।
মঙ্গলবার
সকালেও আগুন লাগা ভবন ও তার আশপাশের
এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। গোডাউন মালিক মো. রবিন জানান, ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিকস
ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। তাঁর ছয়তলার গোডাউনেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার
ব্যাগ ছিল। ভেতরে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় সারা
জীবনের পুঁজি হারানোর ভয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মো. ইমতিয়াজসহ অন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন না নিভতে পারায়
ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, ফায়ার সার্ভিসের ধীরগতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী আজ পথে বসার
উপক্রম হয়েছেন।
এদিকে
অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনসুর খান প্লাজার আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি
ভবন বন্ধ করে দেওয়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাশের আরেকটি ভবনের কসমেটিকস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, একটানা দোকান বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফায়ার
সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, মনসুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করেছে এবং সরু রাস্তা ও কাঠামোগত জটিলতার
কারণে কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গোডাউনের তালা খুলে ভেতরের পরিস্থিতি না দেখা পর্যন্ত
ব্যবসায়ীদের এই অনিশ্চয়তা ও
দুশ্চিন্তা কাটছে না।