যুক্তরাজ্যে
বুনো পাখির সংখ্যা সর্বকালের সর্ব সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সংকলিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে
প্রকাশ পেয়েছে যে, তারা যেসব প্রজাতির পাখির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালায়, তার প্রায় অর্ধেক প্রজাতির পক্ষীকুল এখন তীব্র বিলুপ্তির আশঙ্কায় দিন গুনছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত উক্ত পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, যুক্তরাজ্যে গত পাঁচ দশকে
বুনো পাখির সংখ্যা যে হারে হ্রাস
পেয়েছে, তা অতীতে আর
কখনোই দেখা যায়নি। পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা এই
তথ্য প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ
ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে
উঠে এসেছে যে, ১৯৭০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বসবাসকারী ১৩২টি দেশীয় প্রজননকারী প্রজাতির পাখির গড় জনসংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ কমে
গেছে। বিশেষ করে দেশটির কৃষিভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চলের
জলচর পাখি বা সামুদ্রিক পাখিগুলো
সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন
অব বার্ডস (আরএসপিবি)-এর পর্যবেক্ষণ প্রধান
অধ্যাপক রিচার্ড গ্রেগরি এই প্রাপ্ত তথ্যকে
অত্যন্ত ‘আঘাতজনক ও চিন্তাজনক’ হিসেবে
বর্ণনা করেছেন।
প্রকাশিত হালনাগাদ
তথ্যে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা ১৩২টি প্রজাতির মধ্যে ৪৫ শতাংশ পাখির
সংখ্যাই গত পাঁচ বছরে
দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যার বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ প্রজাতির
বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কেবল ইংল্যান্ড ভূখণ্ডেই প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যবেক্ষণকৃত
প্রজাতির পাখি মারাত্মকভাবে কমেছে। প্রজাতিভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, টারটল ডভ বা ঘুঘু
জাতীয় পাখির সংখ্যা গত পাঁচ বছরে
অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। এছাড়া ট্রি স্প্যারো, উড ওয়ারব্লার এবং
ক্যাপরকেইলির সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে সুইফ্ট বা বাতাসি পাখির
সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে
এবং বু্লফিঞ্চ পাখির সংখ্যাও জাতীয়ভাবে প্রায় একই হারে কমে গেছে।
অন্যদিকে উপকূলীয়
ও সামুদ্রিক পাখির জনসংখ্যাও গত পাঁচ বছরে
এক-পঞ্চমাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ব্রিটিশ ট্রাস্ট ফর অরনিথোলজির ডক্টর
এইলিড বার্নস জানিয়েছেন যে, অতি সংক্রামক বার্ড ফ্লু মহামারি আর্ক্টিক স্কুয়া এবং টার্নসহ বহু প্রজাতির সামুদ্রিক পাখিকে একেবারে নিধন করে ফেলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে কৃষিভূমির পাখিগুলো। ১৯৭০ সালের পর থেকে এই
অঞ্চলের পাখির সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে ৬৩ শতাংশ কমেছে
এবং কেবল ২০২০ সালের পর থেকেই কমেছে
আরও ১২ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশ,
খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক
বিভাগ (ডেফরা) এই দীর্ঘমেয়াদী পতনের
পেছনে কৃষিকাজের পদ্ধতিতে আধুনিক পরিবর্তন, মিশ্র চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়া, গাছে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যাপক
ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় ও উদ্ভিদের আচ্ছাদন
ধ্বংস করাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংবাদ
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান