যুক্তরাষ্ট্রের
রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই এক তীব্র ঝড়
ও আইনি উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিরোধী দলীয় ডেমোক্রেট দলের প্রখ্যাত কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমরের পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত পুরনো ইতিহাস ও নথিপত্র খতিয়ে
দেখার জন্য পরিচালিত একটি অপরাধমূলক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইলহান ওমরের বেশ কজন নিকটাত্মীয়ের নামে অফিসিয়াল সমন বা সাবপোনার জারি
করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয়
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও আলোড়ন তৈরি
করেছে।
প্রতিবেদনে
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমরের বোন সাহরা নুর এবং পরিবারের অন্তত অন্য এক সদস্যের কাছে
এই ফেডেরাল সমন পৌঁছেছে। এর ঠিক আগের
দিনই ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির
(ডিএইচএস) বিশেষ এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত বাসভবনে একটি আকস্মিক তল্লাশি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে ফেডেরাল
এজেন্টরা তার বাসা থেকে বেশ কয়েকটি নথিপত্র ও কাগজের বাক্স
জব্দ করে নিয়ে যান। মূলত ইলহান ওমরের প্রয়াত পিতা নুর ওমর মোহাম্মদ মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের আগে ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণের সময় কোনো মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না কিংবা
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন কি না, তা
নিয়েই এই ফেডেরাল তদন্ত
পরিচালিত হচ্ছে।
নিজের
বাসভবনে এই আকস্মিক ও
বিতর্কিত ফেডেরাল অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডেমোক্রেট নেত্রী ইলহান ওমর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি কড়া
বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি এই পুরো অভিযানটিকে
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন যে, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও ভয় দেখানোর
এক নোংরা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ফেডেরাল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন জানিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেই তাকে কখনোই চুপ করিয়ে রাখা যাবে না।
অন্যদিকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে
দাবি করেছেন যে, কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমর বড় ধরনের জালিয়াতির
সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, আমেরিকান জনগণ এই ঘটনার সঠিক
সত্য ও জবাব চায়
এবং তা এখনই প্রকাশ
করা উচিত। তবে এই অভিযানের বিষয়ে
সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন দেশটির উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স।
তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইলহান ওমরের বাড়িতে এই ফেডেরাল অভিযান
পরিচালনার বিষয়ে তার কাছে আগে থেকে কোনো ধরনের দাপ্তরিক বা অগ্রিম তথ্য
ছিল না। নির্বাচন ঘিয়ে আসার সাথে সাথে এই হাই-প্রোফাইল
তদন্ত মার্কিন রাজনৈতিক ময়দানকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে। সংবাদ সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times)