শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইগাতী থানার সভাকক্ষে থানা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নূর মোহাম্মদ।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শাহজাহান আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার সভাপতি গোপাল সেন গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক বরেন্দ্র কোচ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার চক্রবর্তী এবং উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নীল মাধব হাজংসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা, সতর্কতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা সম্ভব।
সভায় উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের উদ্যাপন কমিটির নেতারা, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।