বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী, সাবেক প্যানেল স্পিকার, বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই (৭৭) আর নেই। বুধবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অটল নীতি, ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা চলাফেরা ও সহজ বাচনভঙ্গির কারণে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
আব্দুল হাই ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মনির উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। শিক্ষাজীবনে তিনি মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী জামিলা খাতুন, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির পদও রয়েছে। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার সংসদীয় রাজনীতির সুদীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন।
তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে একবার এবং সাবেক মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে চারবার সহ মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি সফলভাবে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই প্রবীণ নেতার প্রয়াণে সর্বস্তরের রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।