ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

কৃষিখাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১:৫১ পিএম

কৃষিখাতকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকারকে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা, পর্যাপ্ত সাহায্য এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার ওপর জোরালো গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে থাকে, তবুও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই সহায়তা প্রদান করা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

 

কৃষকদের বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদনের পর অনেক সময় কৃষক তার সঠিক দাম পান না। আবার উল্টো চিত্র হিসেবে দেখা যায়, কৃষক যখন ফসল ফলাতে যান, তখন তাকে বাড়তি চড়া দামে বীজ কিনতে হয়। ফল ও সবজির পচন রোধ করতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

 

বর্তমান কৃষি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কৃষিকাজ এখন আর খুব একটা লাভজনক নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় উপযুক্ত আয়ের যোগান না থাকায় বর্তমান সময়ে মাঠে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি পেশাটি লাভজনক না হওয়ার কারণেই অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। তাই এই সংকট কাটাতে সরকারকে অবশ্যই কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

 

কৃষি খাতের নানা সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ চাষে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে, যার ফলে দেশে এখন আর পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। ফলের উৎপাদনেও বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে, যদিও এর বিপণন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। পাশাপাশি, জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষি বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের জন্য নিশ্চিত পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সর্বত্র স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতির কালো ছায়া ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এখন সময় এসেছে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে নতুন করে দেশ গড়ার। দেশবাসীকে একটু ধৈর্য ধারণ করে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জিত হবে।

 

উক্ত মতবিনিময় সভায় দেশের কৃষিখাতের বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ এবং উজ্জ্বল সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন যে, কৃষিতে এখন কেবল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিলেই চলবে না, বরং পণ্যের গুণগত মানের দিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। বর্তমানে অনেক কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও এখন সময় এসেছে বিদেশে তা রপ্তানি করার। শুধু দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশি কৃষিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এখনই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে আরও উন্নত ও আধুনিক কীটনাশক আবিষ্কারের জন্য গবেষণার পরিধি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর