সৌদি
আরবের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামার ওপর আকস্মিক বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী আকাশপথে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে পরিচালিত বহু সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট
চলাচলে তীব্র বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে
মোট ১০৭টি ফ্লাইটের নির্ধারিত সূচি ও স্বাভাবিক চলাচল
ওলটপালট হয়ে গেছে। ফ্লাইট বিপর্যয় এবং অনিশ্চয়তার কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৬২০
জন মধ্যপ্রাচ্যগামী সাধারণ প্রবাসী ও ভ্রমণকারী যাত্রী
চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার
হয়েছেন।
শুক্রবার
(১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর বেসামরিক বিমান
চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যানে এ ভয়াবহ চিত্র
ফুটে উঠেছে। বেবিচকের বিশদ হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি পরিচালিত ৪৪টি বিঘ্নিত ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদি আরবের ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার সৌদিয়ার ১০টি এবং নতুন চালু হওয়া রিয়াদ এয়ারের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
অন্যদিকে,
যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইটের চলাচলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয়
ইন্ডিগোর ২২টি, ওমানের সালাম এয়ারের ৭টি, মিসরের ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বনামধন্য এমিরেটসের ১৪টি, কাতারের কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং ভারতীয় এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এর
মাত্র একদিন আগে বৃহস্পতিবার দেওয়া তথ্যে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে
মোট ১০৩টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল এবং সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত
যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৫ হাজার ৭৭৯
জনে। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে শুক্রবার বিকেলে বিঘ্নিত ফ্লাইটের তালিকা আরও ৪টি বেড়েছে এবং একই সঙ্গে নতুন করে আরও ৮৪১ জন যাত্রী ফ্লাইট
জটিলতায় আটকে পড়েছেন।
এদিকে
সৌদি আরবের স্থানীয় কয়েকটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব
ধরনের সরাসরি ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত
সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গত বৃহস্পতিবার এক
বিশেষ জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি এ সিদ্ধান্তের কথা
গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
জরুরি
প্রয়োজনে সৌদি আরব ভ্রমণ করতে চাওয়া যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। বিমান
বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রবাসীরা রিয়াদ বা দাম্মামের বদলে
বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশটিতে যাতায়াত রক্ষা করতে পারবেন। যাত্রীদের চাপ সামলাতে মদিনা রুটে ছোট উড়োজাহাজের বদলে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের পরিবর্তে তুলনামূলক বড় বোয়িং ৭৭৭
উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে বাড়তি ১৪৮টি আসন যোগ করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি সবচেয়ে
ব্যস্ত জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি বিশেষ বিকল্প ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রুট পরিবর্তন, টিকিটের পুনঃসমন্বয় ও জরুরি ভ্রমণসংক্রান্ত
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যাত্রীদের দ্রুত বিমানের নিকটস্থ অফিশিয়াল সেলস সেন্টারে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই
সংকটের কারণে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত
ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সকল শিডিউল ফ্লাইটও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ভ্রমণ করতে চাওয়া সাধারণ যাত্রীদের আপাতত বিকল্প হিসেবে মদিনা ও জেদ্দা রুট
ব্যবহার করে সৌদি আরবে পৌঁছাতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।