রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এক আকস্মিক পরিদর্শনকালে নিজ অফিস কক্ষে বোরো আমেজ ছড়িয়ে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ব্যক্তিগত কক্ষটি মারাত্মক অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকের এমন অনাকাক্সিক্ষত আচরণে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ওই চিকিৎসককে চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্তের নির্দেশ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাজধানীর ব্যস্ততম আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই শিশু হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, ওয়ার্ড ও জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং পুরো হাসপাতালের সার্বিক স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা বিভাগসমূহ পর্যবেক্ষণের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানকার সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ওই চিকিৎসককে প্রকাশ্যে ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে ওই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা কক্ষটি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, ছড়ানো-ছিটানো ও নোংরা পরিবেশের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। শিশুদের মতো সংবেদনশীল রোগীদের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রে একজন উচ্চপদস্থ চিকিৎসকের দায়িত্বজ্ঞানহীন ধূমপান এবং এমন অনাসৃষ্টি পরিবেশ দেখে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনার স্থান থেকেই প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে ডেকে পাঠান এবং আইন অমান্যকারী সংশ্লিষ্ট ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন। শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি এই নির্দেশনার পরপরই অভিযুক্ত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আকস্মিক এই পরিদর্শন শেষে দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসক ও নার্সসহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চরম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্ব-স্ব ডিউটি পালন করার কঠোর ওপর তাগিদ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।