রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা গুঞ্জন ও উদ্বেগের মাঝে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ বা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এই ভিত্তিহীন খবরগুলো কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, আজ ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ বা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মর্মে যে সংবাদটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, তা পুরোপুরি অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং একটি বিশেষ মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তের অংশ মাত্র।
বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বর্তমান কর্মতৎপরতা ও দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরে প্রেস কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রকৃত সত্য এই যে, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তাঁর ওপর অর্পিত সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে নিয়মিত পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নই কোনোভাবেই ওঠে না। একটি কুচক্রী মহল নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির হীন লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা স্মরণ করিয়ে দেন, গত কিছুদিন আগে নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি বিশেষ কর্মসূচিতে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতোপূর্বেই সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। সেই বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তাঁর পদত্যাগসংক্রান্ত যে কোনো ধরনের খবর বা গুজব ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পেশাদার সাংবাদিকতার উচ্চনৈতিক নীতিমালার পরিপন্থি।
বিবৃতির শেষাংশে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, আমরা দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যম এবং দেশের সম্মানিত দেশবাসীকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, যেসব মাধ্যম বা পোর্টাল এই বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করেছে, তাদেরকে অবিলম্বে এই সংবাদগুলো প্রত্যাহার করে সঠিক ও সত্য তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায়, এই ধরনের অপপ্রচারকারী ও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রীর এলাকার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক ও কঠোর বিবৃতির পর প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে চলা সব ধরনের গুজবের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের ক্ষতিকর অপপ্রচার রোধে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন থাকার এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।