জুলাইয়ের
শহীদ স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নতুন স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন
রাজধানী
ঢাকার বুকে নতুন ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়
ও স্মৃতির মিনার যুক্ত হলো। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর
শহীদদের আত্মত্যাগ চিরজাগরূক রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে সেই সংগ্রামের চেতনা গেঁথে দিতে ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নির্মিত হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। সোমবার সকালে
এক অনাড়ম্বর ও বর্ণিল অনুষ্ঠানে
এই ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার
(১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়ন করা ঐতিহাসিক এই উদ্যান এবং
এর প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী পর্ব সম্পন্ন করার পর প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত
আবেগঘন পরিবেশে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর মধ্য দিয়ে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজধানী ঢাকার
প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক উদ্যানটি
নতুন রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল।
প্রায়
৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই বিশাল উদ্যান
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নগরবাসীর বিনোদন, শারীরিক চর্চা ও বিশ্রামের জন্য
আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা
নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিকায়ন শেষে দীর্ঘদিন পর আজ তা
নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা হলো। এই প্রকল্পের অধীনে
দৃষ্টিনন্দন লেক, ফোয়ারা, আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, হাঁটার পথ ও শিশুদের
জন্য আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
নতুন
সাজে সজ্জিত এই উদ্যানের মূল
ফটকটি স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিপরীত পাশে। ওই প্রধান ফটক
দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করলেই বামপাশে চোখে পড়বে সুবিশাল লেক, মাঝখানে মনোরম ফোয়ারা এবং সামনে এগিয়ে গেলে আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়া। এছাড়া
লাইব্রেরির ঠিক আগেই বামপাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে বা ভূগর্ভস্থ জাদুঘরের
জন্য একটি সুনির্দিষ্ট স্থান তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
জন্য ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করবে।
উদ্যানের
ঠিক মাঝমাঝিতে অত্যন্ত নান্দনিক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তৈরি করা
হয়েছে মূল ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এর চারদিকে
পাকা করে এবং মাঝখানে স্টিলের পাতের মাঝে জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে খোদাই করা হয়েছে। এছাড়াও স্মৃতিস্তম্ভের রেলিংয়ের ভেতরের সাইটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন
ঐতিহাসিক চিত্র ও গৌরবগাথা স্থায়ীভাবে
স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটির ঠিক সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতীকী কবর, যা সেদিনের রক্তক্ষয়ী
সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর পাশ দিয়েই
রয়েছে চমৎকার ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ।
নতুন প্রজন্মের কাছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত
তাৎপর্য ও চেতনা তুলে
ধরতে এই স্মৃতিস্তম্ভটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা
রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুরো
উদ্যানটিকে আরও সবুজময়, সতেজ ও প্রাণবন্ত করে
তুলতে নতুন করে প্রচুর ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ
রোপণ করা হয়েছে। রাজধানীবাসী যেন কোলাহলপূর্ণ শহর থেকে দূরে নিয়মিত সকালে ও বিকেলে হাঁটতে
পারেন, কিছুটা সময় শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারেন—সেই উপযোগী করেই পুরো উদ্যানটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া উদ্যানের পুরোনো লেকটি সংস্কার করে এর চারপাশের পরিবেশ
আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে।