ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

দলের কোনো চাপ ছিল না, নিজে থেকেই পদত্যাগ করছি : ইশরাক


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১:৩৫ পিএম

মাদকবিরোধী কঠোর লড়াইয়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে যিনি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, সেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা হাইকমান্ডের কোনো ধরনের চাপ না থাকলেও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও বিশেষ কিছু অনিবার্য কারণে তিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই আকস্মিক ও অভাবনীয় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে নিজ দপ্তরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রাক্কালে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের অত্যন্ত স্পষ্ট ও খোলামেলা জবাব দেন তিনি। নিজের পদত্যাগের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন জোরালোভাবে বলেন, “দল চায়নি, আমি নিজে থেকেই পদত্যাগ করছি। বিশেষ কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে।” অর্থাৎ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা দলের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে তাকে পদ ছাড়তে হচ্ছে না, বরং সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে এবং বিশেষ কিছু কারণে তিনি স্বেচ্ছায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দেশজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এই তরুণ প্রতিমন্ত্রী। নিজ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, মন্ত্রিসভা থেকে তার পদত্যাগ ঘটলেও সমাজের মূল শেকড় থেকে মাদক নির্মূল করার এই ঐতিহাসিক লড়াই বা যুদ্ধ কোনোভাবেই থেমে থাকবে না। মাদকের বিরুদ্ধে তার এই আপসহীন ও সাহসী অবস্থান ভবিষ্যতেও ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দেশবাসীকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন।

 

গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন, কানাঘুষা ও নানা সমীকরণ ডালপালা মেলছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন রাজনৈতিক কোনো চাপের মুখে তাকে হয়তো পদ ছাড়তে হচ্ছে। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের সামনে এসে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন। দায়িত্ব পালনকালে দেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নে ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

 

একজন তরুণ, গতিশীল ও জনপ্রিয় প্রতিমন্ত্রীর এমন আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও গভীর ভাবনার উদ্রেক হয়েছে। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি ব্যক্তিগত কোনো অনিবার্য বাধ্যবাধকতা এর পেছনে কাজ করছে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে তার এই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পর সরকারের পরবর্তী প্রশাসনিক বিন্যাস এবং দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর