দলীয় শৃঙ্খলা ও দলের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন রাখতে এক বড় ও অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিলেন সরকারের তরুণ ও জনপ্রিয় মুখ। নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাশা বা অর্জিত পদের মোহ ত্যাগ করে দল যেন কোনোভাবেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেই পবিত্র দায়িত্ববোধ থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করলেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে একই দিন সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে পদত্যাগের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই তরুণ নেতা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দল যেন কোনো কারণে বিব্রত না হয়, সে জন্যই আমি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী একটি ঝটিকা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। সে সময় তার হাতে অস্ত্র থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন মহলে এই ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দল ও সরকারের স্বার্থে তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার এই কঠিন পথ বেছে নেন।
তবে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার লড়াই থেকে যে তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটছেন না, তা অত্যন্ত জোরালোভাবে পরিষ্কার করেছেন ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের পদ থাকুক বা না থাকুক, বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে তার এই আপসহীন যুদ্ধ আরও বেশি সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাবেন।
এছাড়া দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সুসংগঠিত করতে প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করতে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানান। একজন তরুণ ও প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর এমন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।