ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

ডিজে পার্টি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড: অতিরিক্ত ডিআইজিকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:৫৮ এএম

রাজধানীর ভাটারা পুলিশ হাউজিং এলাকায় পুলিশ বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাসায় জন্মদিনের আড়ম্বরের আড়ালে চলছিল অবৈধ ডিজে পার্টি ও মাদকসেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৮৪ জনকে আটকের পর এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত বাড়ি মালিক অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে ওই বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে মাদকদ্রব্যসহ মোট ৮৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ২৪ জন নারী এবং ৬০ জন পুরুষ। তদন্তে জানা যায়, জন্মদিনের পার্টি আয়োজনের কথা বলে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হলেও সেখানে নিয়মিত বসত অবৈধ নেশা ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর।

 

এদিকে নিজের প্রশাসনিক প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির দাবি করেছেন, বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর সেখানে কোনো ভাড়াটিয়া যদি বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সেটির দায়ভার বাড়ি মালিকের ওপর বর্তায় না এবং এ জন্য বাড়ি মালিকের শাস্তি হওয়া অনুচিত।

 

আটককৃতদের বুধবারে গুলশান জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের আদালতে তোলা হলে বিচারক মামলাটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৮৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারক ৫৯ জন পুরুষ আসামির প্রত্যেককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে ১৬ জন নারী আসামির প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়, যা অনাদায়ে আরও ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার কঠোর সমালোচনা উঠে এসেছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে কীভাবে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর