ঘনবসতিপূর্ণ মেগাসিটি রাজধানী ঢাকার জনজীবনের ওপর আশঙ্কাজনক প্রভাব ফেলে বাতাসের মানের আরও অবনতি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের ঝুঁকি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার হালনাগাদ লাইভ বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৩। গতকালের নির্ধারিত ১৬৬ স্কোরের তুলনায় দূষণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে শীর্ষ দূষিত নগরীর তালিকায় ঢাকা দুই ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। পরিবেশবিদদের মতে, বাতাসের এই মান নগরবাসীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে পড়ে।
সারাবিশ্বের দূষিত শহরগুলোর সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আজও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরী হিসেবে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর। ২৮৬ একিউআই স্কোর নিয়ে শহরটির বাতাস ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে ২৩৮ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লি। ১৭৭ একিউআই স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা তৃতীয় স্থানে এবং ১৭৪ স্কোর নিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র মুম্বাই চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ১৭৩ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
বায়ুমানের বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ দূষিত শহরের তালিকায় অন্যান্য নগরীগুলোর মধ্যে ১৬৬ একিউআই স্কোর নিয়ে যৌথভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের কলকাতা ও মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। ১৫৯ স্কোর নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। এছাড়া ১৪৫ স্কোর নিয়ে কঙ্গোর কিনশাসা নবম এবং ১৪৪ স্কোর নিয়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামা দশম স্থানে রয়েছে, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিক পরিবেশগত স্ট্যান্ডার্ড এবং একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য সেই বাতাসকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ ক্রমাগত অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকায় মারাত্মক ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, কোমলমতি শিশু এবং অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে আবশ্যিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত মাস্ক ব্যবহারের জন্য কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।