ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,  ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বয়স্কভাতার কথা বলে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায় সাত সকালে যুবককে গুলি করে হত্যা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা গমের চালান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় রাজি পুতিন অস্ট্রেলিয়ায় সাঁতরে ডুবন্ত চালকের প্রাণ বাঁচালেন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নতুন আশায় বুক বেঁধেছে দাকোপের মানুষ তদন্তের আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ইলন মাস্কের হুঁশিয়ারি হরমুজে কুয়েতি তেল ট্যাংকারে হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ক্রুরা ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ম্যাক্রোঁ গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

তদন্তের আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ইলন মাস্কের হুঁশিয়ারি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:১৩ এএম

ডেমোক্র্যাটদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিলেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক দৃশ্যপট এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির ক্ষমতাধরেরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন কঠোর হুশিয়ারি ও পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রভাবশালী কোটিপতি সহযোগী। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সরাসরি ‘দেখে নেওয়ার’ কড়া হুমকি দিয়ে বার্তা দিয়েছেন।

 

নিজের মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে ইলন মাস্ক লিখেছেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ মূলত প্রভাবশালী মার্কিন নিউজ পোর্টাল ‘পলিটিকো’র একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাটদের এই তদন্ত পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করা হয়, যার জবাবেই মাস্ক এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। এর আগে বিভিন্ন সময় নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে নানা বিতর্কিত তত্ত্ব প্রচারের জন্য পরিচিত মাস্ক আরও লিখেছেন, ‘যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে যে নেপথ্যে থেকে আসলে কে সুতা নাড়াচ্ছে তা আমি খুঁজে বের করব এবং শুধু অনুগত পুতুলদের পেছনে না ছুটে সরাসরি আসল মাথার পেছনেই লাগব।’ তার এই মন্তব্যের পর মার্কিন রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম শীর্ষ আর্থিক দাতা ও প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা। তার মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সরকারি বিভিন্ন বড় অঙ্কের চুক্তির বিশাল সুবিধাভোগী। এছাড়া তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান টেসলারও প্রধান নির্বাহী। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দিয়েছিলেন এই ধনকুবের। পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সরকারি খরচ কমানোর নীতি বাস্তবায়নে এবং প্রায় তিন লাখ সরকারি কর্মচারীকে ছাঁটাই করার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও আলোচিত প্রকল্পের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি।

 

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে। তবে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন শক্তিশালী সংসদীয় তদন্ত কমিটিগুলোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আইনগতভাবে জবাবদিহিতা ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার একচ্ছত্র ক্ষমতা তৈরি হবে তাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ক্ষমতা হাতে পেলেই তাদের প্রধান এবং মূল লক্ষ্য বানানো হতে পারে বিতর্কিত ও প্রভাবশালী ধনকুবের ইলন মাস্ককে।

 

খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য জো লোফগ্রেনের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থের সংঘাত এবং সরকারি পদের অপব্যবহারের যে বিশাল তালিকা আমাদের সামনে এসেছে, তা এক কথায় অত্যন্ত স্তম্ভিত করার মতো।’ মূলত এই আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় এখন থেকেই প্রতিপক্ষকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখছেন মাস্ক। বৈশ্বিক বাণিজ্যের পাশাপাশি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই প্রভাবশালী শিল্পপতির বহুমুখী উপস্থিতি এবং বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: পলিটিকো

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর