দেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান ও আদালতের আইনি কাঠামোর রায়ের আলোকে রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান একদম পরিষ্কার এবং আমরা এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আওয়ামী লীগের শাসন আমল এবং বিদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তি বাংলাদেশে নতুন করে নানাভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তবে যেকোনো অপশক্তি, গণহত্যাকারী বা পলাতক আসামিদের কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের আশ্রয়প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন ও নানা মন্তব্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চায়—এমন খবর আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখেছি। সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পেতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
পার্বত্য অঞ্চলের (বিশেষ করে সাজেক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা) সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রুখতে ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছ। শুধু সামরিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গেও স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।