দেশজুড়ে ডেঙ্গুর পাশাপাশি তীব্র আকার ধারণ করেছে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগ। স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রাণহানির দীর্ঘ মিছিলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগকে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সব মিলিয়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০ জনে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুজন করে মোট চারজন এবং অন্যান্য স্থানে আরও তিনজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫৬৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশ উদ্বেগজনক; যার মধ্যে চট্টগ্রামে ২৪৮ জন, সিলেটে ১০৮ জন, বরিশালে ১১৬ জন, ময়মনসিংহে ৮৩ জন, খুলনায় ৯৬ জন, রাজশাহীতে ৪১ জন এবং রংপুরে ৩৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ২২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্ট ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৫৪১ জন।