চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০.৯০ শতাংশে। এ বছর বোর্ডটি থেকে মোট ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একযোগে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। প্রকাশিত ফলাফলে বিগত বছরের তুলনায় সার্বিক পাসের হার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ফলাফলের প্রায় সবকটি সূচকে ছেলেদের পেছনে ফেলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট ৭২ হাজার ৯৫৫ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী প্রত্যক্ষভাবে পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রের বিপরীতে নারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৯৫৮ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৯৬ জন ছাত্র পাস করায় তাঁদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮.৭২ শতাংশে। অন্যদিকে ২২ হাজার ৫০১ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হওয়ায় তাঁদের পাসের হার ৫২.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে পাসের হারের দিক থেকে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে ৩.৬৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতো সাফল্য অর্জনে শীর্ষে অবস্থান করছেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৪ হাজার ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯ হাজার ৮৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা ৬৮.৫৪ শতাংশ পাসের গৌরব নির্দেশ করে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৯১১ জন পাস করায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭.৮১ শতাংশে। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় বিভাগ মানবিকে ৪৯ হাজার ৩৫৯ জন অংশ নিয়ে ২২ হাজার ৮৪৮ জন পাস করায় পাসের হার নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ৪৬.২৯ শতাংশে। বিগত ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১.৮৬ শতাংশ, যা এবার সামান্য হ্রাস পেলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে বিজ্ঞান বিভাগের নৈপুণ্য বোর্ডের সার্বিক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।