চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সবচাইতে বড় ধাক্কা এসেছে ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে, যার জেরে দেশজুড়ে সার্বিক পাসের হারে ধস নেমেছে। এ বছর মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই এই দুটি আবশ্যিক বিষয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের এই বড় বিপর্যয়ের কারণে এ বছর সার্বিক পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৫২.১২ শতাংশে, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।
শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশদভাবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর পরীক্ষায়
অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৫ লাখ ৯৪
হাজার ১১৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে কেবল ইংরেজি ও তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)—এই দুই বিষয়েই
ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২
হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী।
একক বিষয় হিসেবে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩
হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটি
বিষয়ে পাস করতে ব্যর্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৮
হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী।
এ
বছর দেশজুড়ে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১২ লাখ ৭০
হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি
ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যালোচনায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬
হাজার ৬৮৫ জন। সার্বিক পাসের হার ৫২.১২ শতাংশে
নেমে আসায় এটি গত দুই দশকে
সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে; এর আগে সর্বশেষ
২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭.৭৪ শতাংশ।
এদিকে
ফেল করা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সময় সাশ্রয় করতে দ্রুততম সময়ে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম
এহছানুল হক মিলন। তিনি
জানান, অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই
মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো
শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাঁকে কেবল সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।