চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাশিত বা সন্তোষজনক হয়নি বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিদ্যমান সমস্যা ও শিক্ষা খাতের নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে আগামীতে যেন ফলাফলের এই নিম্নমুখী ভাব দূর করা যায়, সে বিষয়ে সরকার ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। Saturday (৩১ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান ফলাফলের যে ঘাটতি ফুটে উঠেছে, তা পূরণে সরকার একা নয় বরং শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠ গ্রহণ করে আরও সুন্দর ও মানসম্মত ফলাফল উপহার দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষুণ্ন বা অবমূল্যায়িত না হয়, তা নিশ্চিত করতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়ার কথা মনে করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফলের পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ করা হবে। গত এসএসসি পরীক্ষার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, ওই সময় পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও খাতা পুনর্মূল্যায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ঘোষিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীদের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে। আর দেশজুড়ে সব বোর্ড মিলিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় ফল বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।