পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ২টা ৫০ মিনিটে শিবু মার্কেট এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ব্যানার ও ফেস্টুনসহ বিশাল মিছিল নিয়ে মূল সড়কে এসে জড়ো হতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে শ্রমিকদের মূল সড়কে ওঠা আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রবল দাবির মুখে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা একযোগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা শিবু মার্কেট এলাকার ওভারপাসসহ সড়কের উভয় পাশের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
বিক্ষোভকালে আন্দোলনরত শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে প্রাপ্ত স্বল্প বেতনে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের মূল অভিযোগ—সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন নির্দিষ্ট সময় পর পর বৃদ্ধি পেলেও তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন গত কয়েক বছর ধরে বাড়ানো হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে এবং অধিকার আদায়ের তাগিদে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়েন হাজার হাজার পথচারী ও বাসযাত্রী। বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়, আবার অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের ভেতর চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে আটকে থাকেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, বিজিবি, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বুঝিয়ে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।