ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,  ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে সারের তীব্র হাহাকার, রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে মুক্তি পেয়েই ১৫০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘রামায়ণ’ ঢাবি ক্যাম্পাসে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ ভাটারায় দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ গাজীপুরে ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ কুমিল্লার কটক বাজারে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে চটপটির দোকান, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল কাভেম হজের সেঞ্চুরি: চতুর্থ দিনে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা শেষ: আরও দূরে আঘাত হানার ঘোষণা দিল ইরান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:২১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এতদিন ধরে তৈরি করা ব্যালিস্টিক মিসাইলের সর্বোচ্চ পাল্লা বা রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে স্বত্বা বা বাধ্যবাধকতা ছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এর ফলে এখন থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী আরও অধিক দূরপাল্লার বিধ্বংসী মিসাইল তৈরি ও পরিচালনা করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার পাল্টা জবাব কোনো ধরনের ভৌগোলিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা করবে না। ঠিক তার রেশ ধরেই হুংকার দিয়ে বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, মিসাইল রেঞ্জের আগের সীমাবদ্ধতা সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ইরান কথার পরিবর্তে সরাসরি কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে দেবে। তবে দেশটির বহরে বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার কোনো মিসাইল মজুত আছে কি না বা অতীতে ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি সেসময় সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।


বিশ্লেষকদের মতে, দুই হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের আগের সীমাবদ্ধতার কারণে ইরানের মিসাইল প্রযুক্তির আওতাধীন ছিল ইউরোপের গ্রিস ও বালকান অঞ্চলের কিছু অংশ, সমগ্র আরব উপত্যকা এবং মিশরের একটা বড় অংশ। অর্থাৎ এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডই ছিল তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুর সীমানায়। এখন এই রেঞ্জের বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও বহু নতুন দেশ ও অঞ্চল। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরত্বের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল ইরান। যদিও সেসময় তেহরান থেকে ছোড়া দুটি মিসাইলই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছিল, তবুও ওই ঘটনায় দেশটির সুদূর প্রসারী সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা ছিল যে, ইরান তাদের মহাকাশ কর্মসূচিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যেকোনো সময় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম তৈরি করে ফেলতে পারে। বর্তমানের এই নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত সেই আশঙ্কাই আরও বেশি বাস্তব রূপ দিচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর