সরকারি ও বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ছুটি কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় বাড়ানো ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে স্কুল খোলা থাকে মাত্র ১৮০ দিন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় পাঠদানে যুক্ত করতে হবে। এজন্য অপ্রয়োজনীয় ছুটি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রবণতাও কমানো হবে, যেন তারা পুরোপুরি পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারেন।
প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার কারণে পদোন্নতি আটকে থাকলেও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। শূন্য পদগুলোর ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলিও শতভাগ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে সাত বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ জনগণ এখনও নিরক্ষর, যাদের বড় অংশই বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাক্ষরতার মানে শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়; বরং মাতৃভাষায় পড়া, লেখা, অনুধাবন, মৌখিক ও লিখিত যোগাযোগ, গণনা এবং ডিজিটাল দক্ষতাও এর অন্তর্ভুক্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সাক্ষরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য মৌলিক শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা, জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং বাজার চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪ অনুযায়ী ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নিরক্ষর নারী-পুরুষের জন্য সাক্ষরতা, জীবিকা-সম্পর্কিত দক্ষতা ও জীবনব্যাপী শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় ৬৩ জেলায় ২৫ হাজার ৮১৫টি শিখনকেন্দ্রে মোট ৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৬ জন শিক্ষার্থী মূল ধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৪ জেলার ২৪৮টি উপজেলায় ৪৪ লাখ ৬০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে, কক্সবাজারে ২০২৫ সালের জুনে শেষ হতে যাওয়া একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ৮২৫ কিশোর-কিশোরীকে সাক্ষরতার পাশাপাশি ১৩টি ভিন্ন পেশায় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি শিগগিরই আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর