ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

যৌন বিপ্লব: মুক্তি নাকি নতুন শৃঙ্খল?


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৩ পিএম

আরিয়ান খান রাজ

আমি ৩০ বছরের একজন নারী। আমার জীবনের শিক্ষা, কাজ, এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবকিছুই নারীবাদের জয়যাত্রার ফসল। কিন্তু তবুও একটি প্রশ্ন থেকে যায়—এই নারীবাদী বিপ্লব এবং যৌন বিপ্লব আমাদের জন্য কতটা ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে? আজ যখন পর্নোগ্রাফি, হুক-আপ কালচার, বিয়ের হার কমে যাওয়া, জন্মহার হ্রাস, এমনকি যৌন সম্পর্কের পরিমাণও কমে আসছে—তখন কি আমাদের প্রশ্ন তোলা উচিত নয়: আমরা কোথাও ভুল পথে হাঁটছি কি না?

  •  নারীবাদ থেকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা

 লুইস পেরি তার বই The Case Against the Sexual Revolution-এ দৃঢ়ভাবে বলেছেন—হ্যাঁ, আমরা ভুল করেছি। তিনিও একজন নারীবাদী, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধর্ষণ সংকট কেন্দ্র ও যৌন সহিংসতা মোকাবিলার কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, যৌন স্বাধীনতার ধারণা আসলে নারীদের জন্য সমানভাবে নিরাপদ বা সুখকর হয়নি।

  •  প্রকৃত সমস্যা কোথায়?

নারী-পুরুষের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য তুচ্ছ নয়। পুরুষরা শারীরিকভাবে শক্তিশালী, তাদের যৌন ইচ্ছার মাত্রা বেশি এবং তারা বেশি আগ্রহী হুক-আপ কালচার, পর্ন বা অদ্ভুত যৌন ফ্যান্টাসিতে। অন্যদিকে, নারীরা শারীরিকভাবে দুর্বল ও গর্ভধারণের ঝুঁকি বহন করে। এ কারণেই যৌন স্বাধীনতা নারীদের তুলনায় পুরুষদেরই বেশি সুবিধা দিয়েছে।

যৌন বিপ্লব মূলত “ডন জুয়ান” বা “হিউ হেফনার”-এর মতো পুরুষদের জয়গাথা। আর নারীদের বলা হয়েছে, “পুরুষদের মতো জীবনযাপন করো”—যদিও তা তাদের স্বাভাবিক চাহিদা বা নিরাপত্তার সঙ্গে যায় না।

  •  পরিবর্তনের স্রোত

এখন নতুন প্রজন্ম, বিশেষত Gen Z মেয়েরা, টিকটক বা রেডডিটে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করছে। তারা বলছে, “সেক্স পজিটিভ” কালচার আসলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনেকেই এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে—কেউ নিজেকে asexual বলছে, কেউ femcel, আবার কেউ সন্ন্যাসী জীবন বেছে নিচ্ছে।

  • মেয়েদের জন্য পরামর্শ

যদি আমি আমার মেয়েকে পরামর্শ দিই, বলব—

 নিজের অন্তর্দৃষ্টি অমান্য করতে বললে কাউকে বিশ্বাস করবে না।

 ভদ্রতা ও নিয়ন্ত্রণ (chivalry) খারাপ কিছু নয়।

 সহিংসতায় উত্তেজিত পুরুষ থেকে দূরে থাকবে।

 অচেনা পুরুষের সঙ্গে একা হবে না।

 ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করবে না।

 হুট করে শারীরিক সম্পর্কে যাবে না—দেখো, সে কি তোমার প্রতি সিরিয়াস।

 যার সঙ্গে সম্পর্ক করবে, ভেবে নাও সে কি তোমার সন্তানের ভালো বাবা হতে পারবে।

 একগামিতা ও বিয়ে পরিবার গড়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল উপায়।

 

  • মূল বার্তা: গত ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে—যৌন স্বাধীনতা মানেই নিরাপত্তা বা সুখ নয়। শুধু “সম্মতি” যথেষ্ট নয়; কিছু ইচ্ছা ক্ষতিকর, কিছু সম্পর্ক ধ্বংসাত্মক। যৌন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ মানুষ পণ্য নয়, ভালোবাসা ছাড়া যৌনতা মুক্তি নয়। যেমন একটি ভাইরাল টিকটক ভিডিওতে এক তরুণী বলেছিল—“আমি কি আমার ছোটবেলার ছবির মেয়েটিকে রাতের বেলা মদ্যপান শেষে সস্তা বিকল্প হতে দেব?” সে কেঁদে উঠেছিল, আর হাজারো তরুণী তাতে সাড়া দিয়েছিল। এই গল্পই প্রমাণ করে, মায়েদের অভিজ্ঞতার কণ্ঠ থেকে মেয়েদের দূরে রাখা ভুল। নারীবাদকে আবার মা-সত্তায় ফিরতে হবে। যৌন বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি ছিল—“যৌনতা মানেই স্বাধীনতা।” কিন্তু এ ছিল এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। এখন সময় এসেছে সত্যিটা বলার: যৌনতা হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি জীবন, সম্পর্ক ও মানবতার মূলভিত্তি। সূত্র - দ্যা ফ্রি প্রেস

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর