আরিয়ান খান রাজ
আমি
৩০ বছরের একজন নারী। আমার
জীবনের শিক্ষা, কাজ, এমনকি ব্যক্তিগত
সম্পর্ক—সবকিছুই নারীবাদের জয়যাত্রার ফসল। কিন্তু তবুও
একটি প্রশ্ন থেকে যায়—এই
নারীবাদী বিপ্লব এবং যৌন বিপ্লব
আমাদের জন্য কতটা ইতিবাচক
ফল বয়ে এনেছে? আজ
যখন পর্নোগ্রাফি, হুক-আপ কালচার,
বিয়ের হার কমে যাওয়া,
জন্মহার হ্রাস, এমনকি যৌন সম্পর্কের পরিমাণও
কমে আসছে—তখন কি
আমাদের প্রশ্ন তোলা উচিত নয়:
আমরা কোথাও ভুল পথে হাঁটছি
কি না?
- নারীবাদ
থেকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা
লুইস
পেরি তার বই The Case Against the Sexual Revolution-এ দৃঢ়ভাবে বলেছেন—হ্যাঁ, আমরা ভুল করেছি।
তিনিও একজন নারীবাদী, কিন্তু
দীর্ঘ সময় ধর্ষণ সংকট
কেন্দ্র ও যৌন সহিংসতা
মোকাবিলার কাজ করতে গিয়ে
তিনি উপলব্ধি করেছেন, যৌন স্বাধীনতার ধারণা
আসলে নারীদের জন্য সমানভাবে নিরাপদ
বা সুখকর হয়নি।
নারী-পুরুষের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য
তুচ্ছ নয়। পুরুষরা শারীরিকভাবে
শক্তিশালী, তাদের যৌন ইচ্ছার মাত্রা
বেশি এবং তারা বেশি
আগ্রহী হুক-আপ কালচার,
পর্ন বা অদ্ভুত যৌন
ফ্যান্টাসিতে। অন্যদিকে, নারীরা শারীরিকভাবে দুর্বল ও গর্ভধারণের ঝুঁকি
বহন করে। এ কারণেই
যৌন স্বাধীনতা নারীদের তুলনায় পুরুষদেরই বেশি সুবিধা দিয়েছে।
যৌন
বিপ্লব মূলত “ডন জুয়ান” বা
“হিউ হেফনার”-এর মতো পুরুষদের
জয়গাথা। আর নারীদের বলা
হয়েছে, “পুরুষদের মতো জীবনযাপন করো”—যদিও তা তাদের
স্বাভাবিক চাহিদা বা নিরাপত্তার সঙ্গে
যায় না।
এখন
নতুন প্রজন্ম, বিশেষত Gen Z মেয়েরা, টিকটক বা রেডডিটে নিজেদের
অভিজ্ঞতা ভাগ করছে। তারা
বলছে, “সেক্স পজিটিভ” কালচার আসলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত
করেছে। অনেকেই এই সংস্কৃতি থেকে
বেরিয়ে আসছে—কেউ নিজেকে
asexual বলছে, কেউ femcel, আবার কেউ সন্ন্যাসী
জীবন বেছে নিচ্ছে।
যদি
আমি আমার মেয়েকে পরামর্শ
দিই, বলব—
নিজের
অন্তর্দৃষ্টি অমান্য করতে বললে কাউকে
বিশ্বাস করবে না।
ভদ্রতা
ও নিয়ন্ত্রণ (chivalry) খারাপ কিছু নয়।
সহিংসতায়
উত্তেজিত পুরুষ থেকে দূরে থাকবে।
অচেনা
পুরুষের সঙ্গে একা হবে না।
ডেটিং
অ্যাপ ব্যবহার করবে না।
হুট
করে শারীরিক সম্পর্কে যাবে না—দেখো,
সে কি তোমার প্রতি
সিরিয়াস।
যার
সঙ্গে সম্পর্ক করবে, ভেবে নাও সে
কি তোমার সন্তানের ভালো বাবা হতে
পারবে।
একগামিতা
ও বিয়ে পরিবার গড়ার
সবচেয়ে স্থিতিশীল উপায়।
- মূল
বার্তা: গত
৬০ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে—যৌন স্বাধীনতা মানেই
নিরাপত্তা বা সুখ নয়।
শুধু “সম্মতি” যথেষ্ট নয়; কিছু ইচ্ছা
ক্ষতিকর, কিছু সম্পর্ক ধ্বংসাত্মক।
যৌন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ
মানুষ পণ্য নয়, ভালোবাসা
ছাড়া যৌনতা মুক্তি নয়। যেমন
একটি ভাইরাল টিকটক ভিডিওতে এক তরুণী বলেছিল—“আমি কি আমার
ছোটবেলার ছবির মেয়েটিকে রাতের
বেলা মদ্যপান শেষে সস্তা বিকল্প
হতে দেব?” সে কেঁদে উঠেছিল,
আর হাজারো তরুণী তাতে সাড়া দিয়েছিল। এই
গল্পই প্রমাণ করে, মায়েদের অভিজ্ঞতার
কণ্ঠ থেকে মেয়েদের দূরে
রাখা ভুল। নারীবাদকে আবার
মা-সত্তায় ফিরতে হবে। যৌন
বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি ছিল—“যৌনতা মানেই
স্বাধীনতা।” কিন্তু এ ছিল এক
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। এখন সময় এসেছে
সত্যিটা বলার: যৌনতা হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি
জীবন, সম্পর্ক ও মানবতার মূলভিত্তি। সূত্র - দ্যা ফ্রি প্রেস
আকাশজমিন/আরআর