অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসে না হওয়ার মতো কোনো কাজ বা ঘটনা ঘটেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সাম্প্রতিক নানা গুঞ্জন বা পরিস্থিতি নির্বাচনের সময়সূচিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশ লাইন্সের সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগ দেন নির্বাচন কমিশনার। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে, রমজান মাসের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো কারণ বা ঘটনা ঘটেনি যা নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি করবে।”
এ সময় ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “অনেক কিছু গণমাধ্যমে আসছে, তবে আমরা আশা করি এগুলোর কোনো প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়বে না। আইন অনুযায়ী সবকিছু এগোচ্ছে।”
এনসিপি (ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি) প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন তালিকাভুক্ত প্রতীক থেকেই প্রতীক বরাদ্দ দেয়। যে প্রতীকটি তাঁরা চেয়েছেন, তা আমাদের তালিকায় নেই, তাই কমিশন সেটি দিতে পারেনি।”
নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। তাই কোনো চ্যালেঞ্জ আমরা অনুভব করছি না।”
নির্বাচন পদ্ধতি বা গণভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা শোভন নয়।”
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “যে দলটির কথা বলা হচ্ছে, তাদের কার্যক্রম আদালতের আদেশে স্থগিত আছে। তাই এখন তারা নির্বাচন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না।”
নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পাবেন কি না, এমন প্রশ্নে ইসি আনোয়ারুল বলেন, “বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। আমরা আইন কঠোর করছি। প্রার্থিতা বাতিল থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র বাতিল পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মাঠ প্রশাসন ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিতে যাচ্ছি, যেন তাঁরা নিরাপদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে কমিশন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
এর আগে অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “পরবর্তী প্রজন্ম যেন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করতে পারে, সেজন্য নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষপাত করবে না। আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলব না।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—কমিশন নিরপেক্ষ থাকবে, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না। পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন কর্মকর্তারা যেন নিজেদের দায়িত্ব আইন অনুযায়ী পালন করেন, সেটিই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আকাশজমিন / আরআর