ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মৃত্যুর আগের দিন কেমন কেটেছিল সালমান শাহর


ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ

  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৬:১১ পিএম

বিনোদন প্রতিবেদক 

ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর রহস্য আজও ঘিরে রেখেছে ভক্তদের মনে নানা প্রশ্ন। নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই তারকার অকাল মৃত্যু এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মৃত্যুর আগের দিনটি, যেটি হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় দিন ছিল।

১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার— সালমান শাহ সারাদিন ছিলেন তাঁর নতুন ছবি প্রেম পিয়াসী–র ডাবিং নিয়ে ব্যস্ত। কাজ চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহ–অভিনেত্রী শাবনূর। শুটিং সেটে হাসি-আড্ডা, খুনসুটি আর প্রাণবন্ত পরিবেশের মাঝেই কেউ টের পায়নি, এক গভীর অস্থিরতা যেন ছায়ার মতো ঘিরে রেখেছিল তাঁকে।

সেদিন দুপুরে সালমান শাহ তাঁর বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন, যেন তাঁর স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বশুর সামিরাকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। সাউন্ড কমপ্লেক্সে ঢুকেই সামিরা দেখেন, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে মজা করছেন। সেই সময়ের বিনোদনপত্রিকাগুলোতে দুজনকে নিয়ে নানা গুঞ্জন প্রকাশিত হওয়ায় সামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত এফডিসি ত্যাগ করেন।

সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সামিরা গাড়িতে ওঠেন, বিষয়টি টের পেয়ে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন। পুরো পথ জুড়েই সামিরা নীরব থাকেন, সালমানের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। বাদল খন্দকার চেষ্টা করেও তাদের মধ্যে কথাবার্তা করাতে ব্যর্থ হন।

গাড়ি যখন এফডিসির ফটকে পৌঁছায়, সালমান নেমে পড়েন এবং কিছুক্ষণ বাদল খন্দকারের সঙ্গে আড্ডা দেন। পরে তিনি আবার ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও আর কোনো কাজ হয়নি। রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমান শাহকে তাঁর নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। এরপরই সবকিছু থেমে যায়।

পরদিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে মর্মান্তিক সংবাদ— সালমান শাহ মারা গেছেন! সংবাদটি ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বাংলাদেশ। লাখো ভক্ত ভিড় জমায় তাঁর বাসার সামনে। কেউ বিশ্বাস করতে চায়নি, প্রাণচঞ্চল সেই তরুণ নায়ক আর নেই।

পরিচালক শাহ আলম ও ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান ছিলেন প্রবল মানসিক চাপে। পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রযোজকদের সঙ্গে মতবিরোধ, এমনকি শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞা—all মিলিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

মাত্র চার বছরে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে ইতিহাস গড়েছিলেন সালমান শাহ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগের ইতি টেনে দেয়। ২৯ বছর পর আদালতের নতুন নির্দেশে হয়তো আবারও আলো জ্বলছে সেই রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায়। হয়তো এবার জানা যাবে, ঠিক কীভাবে থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর