ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঐকমত্য নয়, অনৈক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কমিশন: সালাহউদ্দিন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৭:১৯ পিএম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে যে সুপারিশমালা দিয়েছে, সেখানে পূর্বে স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে—যা ঐকমত্যের চেতনার পরিপন্থী।”

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল, যেগুলো স্পষ্টভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ ছিল, এই ভিন্নমতগুলো পরবর্তী নির্বাচনে কোনো দল জনসমর্থন পেলে, তারা নিজেদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে পারবে। কিন্তু আজ যে সংযুক্তিগুলো কমিশন সুপারিশ হিসেবে দিয়েছে, সেখানে সেই ডিসেন্টগুলোর কোনো উল্লেখই রাখা হয়নি—যা অত্যন্ত বিস্ময়কর।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে ৮৪টি দফা রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মতানৈক্যের জায়গাগুলো স্পষ্টভাবে লেখা আছে। অথচ এখন যেভাবে খসড়া সুপারিশ তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন কিছু উপাদান যোগ করা হয়েছে, যা মূল সনদের নীতি ও চেতনার বাইরে।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা মনে করি, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে এখানে জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। তবে আমরা ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই তাদের কার্যক্রম শেষ করার জন্য।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কমিশনের আলোচনায় বিএনপি অংশ নিয়েছিল, তবে সেখানে কখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মতো বিষয় টেবিলে ছিল না। এটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয়, যা কোনো আলোচনায় হয়নি। ফলে, এটিকে ঐকমত্যের অংশ বলা যায় না।”

তিনি বলেন, “এই কমিশনের দায়িত্ব ছিল জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করা। কিন্তু সেখানে নতুন নতুন রাজনৈতিক ধারণা সংযুক্ত করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এভাবে চলতে থাকলে ঐকমত্য নয়, বরং অনৈক্যই গভীর হবে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “দেশে এমনিতেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এর মধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব বা একতরফা সুপারিশ জনগণের আস্থা নষ্ট করবে। আমাদের দাবি—যা স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার বাইরের কোনো সুপারিশ যেন বাস্তবায়িত না হয়।”

তিনি কমিশনের সুপারিশমালায় নোট অব ডিসেন্ট না থাকা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংযোজনকে ‘প্রকৃত ঐকমত্যের পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত বিএনপি নেতারা বলেন, “জুলাই সনদের আসল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় সংলাপ ও ঐক্য, কিন্তু এর সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তনগুলো নতুন করে বিভক্তি তৈরি করছে।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর