ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা নদীর চরে গোলাগুলিতে নিহত দুই


পদ্মার চরে গতকাল সোমবার গোলাগুলিতে নিহত নাজমুলের স্বজনদের আহাজারি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চর খানপুরে

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৯:২৩ পিএম

রাজশাহী-কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীর চরে গত সোমবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন আমান মণ্ডল (৩৬) ও নাজমুল মণ্ডল (২৬)। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থল থেকে অনেক গুলির খোসা ও কয়েকটি তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল ‘রাজশাহীর বাঘা নাকি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর’, তা নির্ণয় করতে বেশ সময় লেগেছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন। তারা গুগল মানচিত্রের সাহায্যে জায়গাটি শনাক্ত করেন। পরিদর্শনের পর জানা যায়, পদ্মার চরের এই স্থান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার মরিচা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে কুষ্টিয়ার ‘কাকন বাহিনী’। এই গোষ্ঠী এলাকায় বালু সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। নিহতরা ওই এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন, নদীভাঙনের কারণে বাঘার ভেতরে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা খড় কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। জমি দখলকে কেন্দ্র করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ জানান, নিহতদের জাতীয় পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। ঘটনাস্থল দৌলতপুর থানার মধ্যে পড়ায় মামলাটি সেই থানায় হবে। এছাড়া, মামলার মেরিট নষ্ট না হওয়ার জন্য এবং তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, ঘটনার সময় গুলির সংখ্যা এখনও সম্পূর্ণভাবে গণনা করা হয়নি, তবে ৭০–৮০টির মতো হতে পারে।

ওসি আরও বলেন, নিহত আমানের বাবা মিনহাজ মণ্ডলকে থানায় ডাকা হয়েছে মামলা করার জন্য। আহতরা হলেন মুনতাজ মণ্ডল (৩২) ও বারিক হোসেন (১৮)। উভয়েই গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, ট্রলার ব্যবহার করে নদীর মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে। তারা গুগল ম্যাপের মাধ্যমে সঠিক স্থান নির্ধারণ করেছেন।

পুলিশ ও হতাহত পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলাচলের জন্য জমি দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে কাকন বাহিনী মুনতাজ মণ্ডলের পক্ষের লোকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে দেরি হওয়ায় মামলা দেরিতে শুরু হলেও, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও দায়ী করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর