সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বোর্ডিং ব্রিজে ধাক্কা খেয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিজি-২০১ ফ্লাইটের যাত্রী বোর্ডিংয়ের সময় বোর্ডিং ব্রিজে ধাক্কা লেগে বিমানের একটি ইঞ্জিনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলীরা বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা পরীক্ষা করছেন। পরীক্ষা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিমানটি উড্ডয়নের উপযোগী কিনা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন এবং কাঠামোগত অংশ পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে। এতে ফ্লাইটের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিমানটির ইঞ্জিন বোর্ডিং ব্রিজে ধাক্কা লাগার পরপরই উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়েছে। প্রকৌশলীরা বিমানের অবস্থা যাচাই করছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় বিকল্প ব্যবস্থায় তাদের লন্ডনে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটার মধ্যে বিকল্প বিমানে সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন যাত্রীরা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়ে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবা বিভাগের কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। বোর্ডিং ব্রিজের সঠিক অবস্থান, যাত্রী বোর্ডিং এবং বিমান চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবিক ভুলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনায় যাত্রীদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
প্রকৌশলীরা বিমানটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরীক্ষা শেষে সম্ভাব্য মেরামতের সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে, সকল প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ শেষে বিমানটি নিরাপদভাবে চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে।
এদিকে,যাত্রীদের আরামদায়ক যাত্রার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও তাদের প্রয়োজনীয় সেবা এবং খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করছে, যে এই বিলম্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটগুলো সাধারণত সময়মতো চললেও মাঝে মাঝে এমন দুর্ঘটনার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে। বিশেষভাবে বোর্ডিং ব্রিজ এবং বিমানের ইঞ্জিন সংক্রান্ত যেকোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিমান চলাচলকারী সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।
এই ঘটনায় বোর্ডিং ব্রিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের সুরক্ষায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলেছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর