ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদ পাশ অপরিহার্য, নির্বাচন সময়ে নাও হতে পারে: তাহের


জুলাই সনদ পাশ অপরিহার্য, নির্বাচন সময়ে নাও হতে পারে: তাহের

  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ও সংস্কারের জন্য আলাদা গণভোট দেওয়া জরুরি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, যদিও আমরা আশা করি জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে হবে, তবে কোনো কারণে তা না হলে হলেও জুলাই সনদ পাশ করা অপরিহার্য।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী ও কমনওয়েলথের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলে ছিলেন ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ, ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট’ প্রধান, ড. দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, মিসেস ন্যান্সি কানিয়াগো, মি সার্থক রায় ও মিসেস ম্যাডোনা লিঞ্চ।

ডা. তাহের বলেন, “গণভোট হচ্ছে জুলাই সনদ ও সংস্কারের বিষয়ে জনমত নেয়ার মাধ্যম, আর জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতার নির্ণয়। দুটো নির্বাচনের চরিত্র ভিন্ন। যদি নির্বাচন যথাসময়ে না হয়, তাহলেও জুলাই সনদকে অবশ্যই পাশ করতে হবে। গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করলে সনদের গুরুত্ব হারাবে এবং অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ জাতির জন্য পরিবর্তনের দলিল। এরকম সংস্কার আগে কখনো হয়নি। তাই দ্রুত তারিখ ঘোষণা করে আলাদা গণভোট নেওয়া প্রয়োজন। গণভোটের সঙ্গে আপার হাউজ নির্বাচন সম্পর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত জড়িত, যা ভোটারদের আগে জানা প্রয়োজন। একসঙ্গে হলে জনগণ ঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে না।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ—সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন। ডা. তাহের বলেন, “সময় আছে। আগে বাংলাদেশে দুটি ভোট হয়েছে ১৭ ও ২১ দিনের ব্যবধানে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করলে নভেম্বরেই নির্বাচন সম্ভব। অল্প সময় এবং খরচে এটি করা সম্ভব। প্রার্থী বাছাই, প্রার্থিতা ঘোষণার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে না। ভোটের জন্য ব্যালট বাক্সও একই ব্যবহার করা যাবে।”

তিনি বলেন, “ভোটার আসবে। যারা হ্যা-পক্ষে তাদের মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। টাকা খরচ হলেও দেশের স্বার্থে তা জরুরি। জুলাই সনদ গুরুত্বপূর্ণ—ভবিষ্যতের রাজনীতির দিগন্ত খুলবে।”

তাহের উল্লেখ করেন, “নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আর্মি, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ সকল এনফোর্সমেন্ট থাকানো উচিত। আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এ উদ্যোগের পক্ষপাতী।”

তিনি বলেন, “গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হলে গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে। কারণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভোটারদের মনোযোগ মূলত জাতীয় নির্বাচনে রাখবেন, তাই আলাদা গণভোটের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।”

শেষে তাহের জানান, জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি নির্মূল এবং গুড গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশের রাজনীতির স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ অপরিহার্য।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর