ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চুক্তি হলো না, ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি সংলাপ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:০৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের শান্তি সংলাপ শেষ হয়েছে কোনো চুক্তি বা লিখিত সমঝোতা ছাড়াই। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, সংলাপের পুরো প্রক্রিয়াই ‘অচলাবস্থায়’ গিয়ে ঠেকেছে। জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “একটা পরিপূর্ণ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংলাপ অনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে, এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”

গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিরা। আলোচনার পর শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হয়নি। ফলে সংলাপের প্রাসঙ্গিকতাও হারিয়ে যায়।

এই সংলাপে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয় কাতার ও তুরস্ক। তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খাজা আসিফ বলেন, “আমরা সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনের জন্য আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। এমনকি আফগান প্রতিনিধিরাও প্রথমে সম্মত হয়েছিলেন।”

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর্যায়ে এলে আফগান পক্ষ পিছিয়ে যায়। আসিফ বলেন, “তারা চান, তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে আমরা আস্থা রাখি। এটা কীভাবে সম্ভব? কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা লিখিত সমঝোতা ছাড়া হয় না।”

২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মূল কারণ পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। কট্টরপন্থি এই গোষ্ঠীর হামলায় গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। কাবুল অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ৯ অক্টোবর কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, যাতে টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ ও আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর দুই দিন পর সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে হামলা চালায় আফগান বাহিনী। পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান, যা চার দিন ধরে চলতে থাকে। সংঘাতে আফগান সেনার ২০০ এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সদস্য নিহত হন। পরবর্তীতে কাতারের দোহায় ও পরে ইস্তাম্বুলে শান্তি সংলাপের আয়োজন করা হয়, কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা ভেস্তে যায়।

খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—সন্ত্রাসীরা যেন আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে। কিন্তু কাবুল সে প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি। ভবিষ্যতে এমন হামলা হলে আমরা সমুচিত জবাব দেব।”

সূত্র : জিও নিউজ

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর