আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
সরকারি বরাদ্দ ২১৯ মেট্রিকটন বোরো ধান সংগ্রহে আমতলী উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৪৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ আর্দ্রতার অজুহাত দেখিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের ধান ক্রয় থেকে বিরত থেকেছে। অন্যদিকে, খাদ্য অধিদপ্তর ও ক্রয় কমিটির লোকজন সিন্ডিকেট করে বাজার থেকে কম দামে ধান ক্রয় করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, সিন্ডিকেটের সদস্য ফাতেমা রাইস মিলের মালিক দেলোয়ার হোসেন বাজার থেকে ১১৪০ টাকায় ধান ক্রয় করে খাদ্য গুদামে ১৪৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি ধান ক্রেতা, বিক্রেতা ও মিলার তিনটি ভূমিকাই পালন করেছেন। এতে প্রতি মণ ধান থেকে ৩০০ টাকা ঘাটতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ২১৯ মেট্রিকটন ধানে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার মতো অনিয়ম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ধান ক্রয়ের তালিকায় ৭৩ জন কৃষকের নাম থাকলেও বাস্তবে কেউ খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেননি। তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কৃষকের বাড়ি সিন্ডিকেটের মালিক দেলোয়ার হোসেনের গ্রামের নাম ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রকৃত কোনো কৃষক নেই।
তালিকাভুক্ত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ১৫ জনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। আর যারা ফোনে কথা বলেছেন, তারা জানিয়েছেন তারা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেননি বরং সরাসরি মিলের মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। তাদের দাবি, ধান ক্রয়ের প্রকৃত হিসেব মিলের মালিকরাই করেছেন এবং সরকারের বরাদ্দকৃত ধানের মজুদ বা ক্রয়ের প্রকৃত হিসেব গোপন রাখা হচ্ছে।
কৃষক নজরুল ইসলাম ও আউয়াল বলেন, তারা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়েও আর্দ্রতার অজুহাতে ধান ক্রয় করা হয়নি। পরে টমটম ভাড়া দিয়ে ধান ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। অন্যদিকে, ফাতেমা রাইস মিলের মালিক দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি স্থানীয় ও মিলের সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ লোকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেছেন এবং সেই ধানই খাদ্য গুদামে বিক্রি করেছেন।
আমতলী উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শান্তি রঞ্জন দাস এ বিষয়ে কোনও সদুত্তর না দিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শারমিন জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ধান ক্রয় হয়েছে। কৃষি অফিসারের কাছ থেকে তথ্য না পাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, কম পরিমাণ ধান ক্রয় হওয়ায় সবাই জানেন না।
ধান ক্রয় কমিটির সদস্য উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রাসেল বলেন, তিনি সদস্য হলেও ধান ক্রয়ের বিষয়টি জানেন না। তিনি আরও জানান, কিছু কৃষক ধান নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু আর্দ্রতার অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, এই বিষয়টি জানি না, তবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর