ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্দীদের পোশাকে কলার স্তূপে ‘নেতানিয়াহুকে বসিয়ে’ বিক্ষোভ


বন্দীদের পোশাকে কলার স্তূপে ‘নেতানিয়াহুকে বসিয়ে’ বিক্ষোভ

  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৭ এএম

তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। দুর্নীতি, ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থাভঙ্গ–এমন তিনটি মামলায় চলমান বিচারপ্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি চান তিনি। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার আবেদন জানানোর পরই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ চরমে ওঠে। প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে এই আবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নেতানিয়াহু এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি। তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গতকাল এক ভিডিও বার্তায় ৭৬ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নেতা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচার আরও বহু বছর ধরে চলতে পারে এবং এর ফলে দেশ ভেতর থেকে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, বিচার অব্যাহত থাকায় ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল আবিবে রাতভর বিক্ষোভ গড়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, ক্ষমার আবেদন করে নেতানিয়াহু দায় এড়াতে চাচ্ছেন। তাঁদের দাবি—যে অপরাধের জন্য বিচার চলছে, সেই বিচার থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিক্ষোভকারীদের অনেকেই কারাবন্দীদের মতো কমলা রঙের পোশাক পরে নেতানিয়াহুর আদলে সাজেন। কলার স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা ‘পারডন = ব্যানানা রিপাবলিক’ স্লোগান দেন। কলার স্তূপে ঝুলিয়ে রাখা হয় ‘ক্ষমা’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ডও। বিক্ষোভকারীরা বলেন, কোনো বিচারপ্রক্রিয়া না মেনেই ক্ষমা চাওয়া একটি দেশের জন্য অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়—যেমনটি ঘটে দুর্বল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দেশে।

বিক্ষোভে বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও যোগ দেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি আহ্বান জানান, যেন নেতানিয়াহুর আবেদন বাতিল করা হয়। তাঁদের মতে, দায় স্বীকার না করেই বিচার বাতিলের দাবি করা একধরনের রাজনৈতিক অপব্যবহার।

সরকারবিরোধী অধিকারকর্মী শিকমা ব্রেসল বলেন, নেতানিয়াহু দেশের গভীর সংকটের জন্য কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং তিনি বিচার সম্পূর্ণ বাতিল করেই পার পেতে চান, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হারজগের কার্যালয় এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর আবেদনকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। সেখানে বলা হয়, আবেদনের গুরুত্ব ও পরিণতি গভীরভাবে বিবেচনা করে মতামত সংগ্রহের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন মেয়াদ মিলিয়ে তিনি ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন। ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতা এই রাজনীতিবিদ ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনাটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, বিচার চলমান অবস্থায় কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর অনুসারীরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়া তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা বাধাগ্রস্ত করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর