দেশের ব্যাংকিং খাতে অস্থিতিশীলতা দূর করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একত্রিত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ নামে নতুন একটি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে ব্যাংকটি কার্যক্রম শুরু করেছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে গ্রাহকরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত তুলে নিতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানত ফেরতের জন্য একটি রোডম্যাপও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এই ব্যাংক গঠনে অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। দেশের বৃহত্তম সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হলো। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ বোর্ড সভায় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে এই একীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সোমবার নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারের অংশ রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসে আমানতকারীদের শেয়ার রূপান্তরের মাধ্যমে। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি বলেন, “সরকারি মালিকানায় নতুন একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।”
মঙ্গলবার গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, ব্যাংকের ভিশন, মিশন, আইন-কানুন ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এখন পাঁচ ব্যাংকের একীকরণ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর