ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজায় ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:২৫ পিএম

দক্ষিণ গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত অসংখ্য ভবন আজও নৃশংসতার নির্মম সাক্ষ্য বহন করে। সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জড়ো হয় হাজারো মানুষ। যুদ্ধের বিভীষিকা, টানা দুই বছরের সংঘাত, মৃত্যু আর সর্বনাশের মাঝেও সেই ভিড়ে দেখা মেলে এক নতুন আশার আলো—একসঙ্গে ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে।

গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক বিপর্যয়ের আরেক প্রতিচ্ছবি। বিস্ময়করভাবে এই ধ্বংসস্তূপই হয়ে উঠেছে ভালোবাসার নতুন পথচলার মঞ্চ। বিয়ের সাজে সজ্জিত নবদম্পতিদের মুখে ছিল উত্তেজনা, আবেগ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেও নতুন জীবনের প্রত্যাশা।

স্থানীয় আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, ঘরবাড়ি হারানো, আর্থিক সংকট ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে বহু তরুণ-তরুণীর বিয়ে আটকে ছিল। তাদের পাশে দাঁড়াতে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়, যাতে কোনো পরিবারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে না হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের জীবনে অন্তত একদিনের জন্য হলেও আনন্দ ফিরিয়ে আনাই ছিল আয়োজকদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবদম্পতিদের পরিবার, স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্য এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনকে পেছনে রেখে তৈরি করা হয় একটি প্রতীকী মঞ্চ, যেখানে দম্পতিরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনেকের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু, আবার কারও মুখে জীবনের প্রতি নতুন করে বিশ্বাস জন্মানোর গল্প।

নবদম্পতিদের একজন জানান, যুদ্ধ তাদের জীবনে যা কেড়ে নিয়েছে, আজকের দিনটি যেন সেই শূন্যতার মাঝে একটুখানি আলো ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের চারপাশ ধ্বংস। কিন্তু এই বিয়ে প্রমাণ করে—ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে।”

যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যাওয়া গাজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। মানুষের ঘর নেই, চিকিৎসা নেই, শিক্ষা নেই—তার ওপর আছে প্রতিদিন মৃত্যুর আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতিতে গণবিয়ের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি এক ধরনের প্রতিরোধ, আশার ঘোষণা এবং মানবিকতার জয়গান।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা বলছিলেন, গাজায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখনো অনেক দূরের পথ। তবুও, তারা বিশ্বাস করেন, এমন উদ্যোগ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, সাহস দেয় এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।

ধ্বংসের পাহাড় ডিঙিয়ে ভালোবাসার এই ছোট্ট বিজয় গাজার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিল—জীবন যতই কঠিন হোক, মানবিকতা আর সম্পর্কের টান কোনো বোমা বা গোলার চেয়েও শক্তিশালী।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর