ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজায় ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:২৫ পিএম

দক্ষিণ গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত অসংখ্য ভবন আজও নৃশংসতার নির্মম সাক্ষ্য বহন করে। সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জড়ো হয় হাজারো মানুষ। যুদ্ধের বিভীষিকা, টানা দুই বছরের সংঘাত, মৃত্যু আর সর্বনাশের মাঝেও সেই ভিড়ে দেখা মেলে এক নতুন আশার আলো—একসঙ্গে ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে।

গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক বিপর্যয়ের আরেক প্রতিচ্ছবি। বিস্ময়করভাবে এই ধ্বংসস্তূপই হয়ে উঠেছে ভালোবাসার নতুন পথচলার মঞ্চ। বিয়ের সাজে সজ্জিত নবদম্পতিদের মুখে ছিল উত্তেজনা, আবেগ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেও নতুন জীবনের প্রত্যাশা।

স্থানীয় আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, ঘরবাড়ি হারানো, আর্থিক সংকট ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে বহু তরুণ-তরুণীর বিয়ে আটকে ছিল। তাদের পাশে দাঁড়াতে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়, যাতে কোনো পরিবারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে না হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের জীবনে অন্তত একদিনের জন্য হলেও আনন্দ ফিরিয়ে আনাই ছিল আয়োজকদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবদম্পতিদের পরিবার, স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্য এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনকে পেছনে রেখে তৈরি করা হয় একটি প্রতীকী মঞ্চ, যেখানে দম্পতিরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনেকের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু, আবার কারও মুখে জীবনের প্রতি নতুন করে বিশ্বাস জন্মানোর গল্প।

নবদম্পতিদের একজন জানান, যুদ্ধ তাদের জীবনে যা কেড়ে নিয়েছে, আজকের দিনটি যেন সেই শূন্যতার মাঝে একটুখানি আলো ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের চারপাশ ধ্বংস। কিন্তু এই বিয়ে প্রমাণ করে—ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে।”

যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যাওয়া গাজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। মানুষের ঘর নেই, চিকিৎসা নেই, শিক্ষা নেই—তার ওপর আছে প্রতিদিন মৃত্যুর আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতিতে গণবিয়ের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি এক ধরনের প্রতিরোধ, আশার ঘোষণা এবং মানবিকতার জয়গান।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা বলছিলেন, গাজায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখনো অনেক দূরের পথ। তবুও, তারা বিশ্বাস করেন, এমন উদ্যোগ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, সাহস দেয় এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।

ধ্বংসের পাহাড় ডিঙিয়ে ভালোবাসার এই ছোট্ট বিজয় গাজার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিল—জীবন যতই কঠিন হোক, মানবিকতা আর সম্পর্কের টান কোনো বোমা বা গোলার চেয়েও শক্তিশালী।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর