ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিন: দিল্লি


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:১৬ পিএম

বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া বিষয়ে ভারতের দৃষ্টি এখনো স্পষ্ট। দিল্লি মনে করছে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে প্রতীকী হলেও আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। ভারতের এই মনোভাব সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।

ভারতের এই অবস্থানের পেছনে আছে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উদাহরণ। বাংলাদেশে ‘জুলাই গণহত্যা’র অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করছে, দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না– এটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ভারতের বার্তা পরিষ্কার: নির্বাচন শুধু সুষ্ঠু ও অবাধ হওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন। ভারত চায় ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনও না কোনও আকারে লড়ার সুযোগ পাক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন মূলত দেশের দায়িত্ব, তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কা ও নেপালের উদাহরণ ভারতের যুক্তি সমর্থন করছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। রাজাপাকসকে প্রাসাদ পর্যন্ত দখল করতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে নির্বাচন আয়োজনের সময় তার দলকে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

নেপালে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকার জেন জির আন্দোলনের চাপের মুখে পদত্যাগ করে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ওই দেশের সব দল অংশগ্রহণ করতে পারছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দলও রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নেপালেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধীরে ধীরে ফিরে এসেছে।

ভারতের এই উদাহরণ ঢাকার কাছে বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশেরও উচিত হবে শান্তি, প্রগতি ও সংহতির স্বার্থে দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে।

দিল্লির বিশ্বাস, বাংলাদেশ এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমাধান বের করতে পারবে। তবে আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর